Bangladesh’s Election Risks Becoming a Symbolic Vote, Not a Democratic One
Bangladesh is preparing for a national election amid deep political fractures and institutional uncertainty. While February is frequently cited as a potential timeline, the more urgent question is not when the election will be held, but whether it can be credible at all.
The foundations of a legitimate election—administrative neutrality, political inclusion, and voter security—remain alarmingly weak. Allegations of partisan influence within the interim administrative framework continue to circulate, eroding public confidence in the state’s ability to oversee a fair process.
Compounding the problem, calls for reform and justice—both legitimate in principle—are increasingly deployed as political instruments. Without genuine cultural and institutional transformation, reform risks becoming a mechanism for electoral engineering rather than democratic renewal.
The most destabilizing development is the emerging effort to push the Awami League outside the electoral mainstream. Accountability for past abuses is essential. But excluding a historically rooted party with a substantial voter base would strip any election of democratic legitimacy and invite international skepticism. Even at its weakest point, the party commanded close to 40 percent of the national vote—an electoral reality no credible process can ignore.
There is also a real danger of violence. Bangladesh’s history shows that intimidation and street confrontation sharply suppress voter turnout. An election conducted under fear will not represent public will—it will merely simulate it.
If citizens come to see the vote as a managed exercise designed for international optics or elite settlements, disengagement will follow. When trust in elections collapses, democracy becomes procedural rather than participatory.
Without urgent steps to restore neutrality, inclusion, and security, Bangladesh risks holding an election that satisfies a calendar—but fails a democracy.
=========================
নির্বাচন: শুধুই কি ক্যালেন্ডারের তারিখ, নাকি জনমতের পরীক্ষা?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। কেউ দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলছেন, কেউ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে সম্ভাব্য সময়সূচি মিলাচ্ছেন। আমিও অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষপাতী। কিন্তু প্রশ্নটি শুধু ‘কবে নির্বাচন হবে’—এখানে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হলো—‘কেমন নির্বাচন হবে’ এবং সেই নির্বাচন আদৌ অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে কি না।
অনেকে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন চান এবং ঘোষণা দিয়েছেন—তাঁর মতো মানুষ থাকলে নির্বাচন হবেই। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও অবদানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলতে হয়, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—শুধু তারিখ ঘোষণা করলেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হয় না।
আমার আশঙ্কা, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলেও সেটি প্রকৃত অর্থে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে না। এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট। যে নির্বাচনের স্বপ্ন মানুষ দেখে—যেখানে ভোটাধিকার বাস্তবে প্রয়োগ করা যায়, ফলাফলে তার প্রতিফলন থাকে, প্রকৃত বাছাইয়ের সুযোগ থাকে—সেই পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
রাজনৈতিক অনিচ্ছার পাশাপাশি প্রশাসনিক দুর্বলতা ও ভোটারদের নিরাপত্তাহীনতা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে একটি ‘ভোটারহীন মহড়ায়’ পরিণত করতে পারে। রাষ্ট্র যখন নাগরিকের ভোটাধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন ব্যালট বাক্স শূন্যই থেকে যায়।
একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান শর্ত প্রশাসনের নিরঙ্কুশ নিরপেক্ষতা। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর কোনো কোনো স্তরকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কারও কারও রাজনৈতিক সংযোগ বা বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তার সন্তোষজনক জবাব এখনো মেলেনি। এই 'প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার সংকট' কাটিয়ে ওঠা না গেলে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। বিশেষ করে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার প্রভাব বিস্তারের যে অভিযোগ উঠছে, তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় কতটা সক্ষম, সেটিও অনিশ্চিত। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কেউ সংস্কারের কথা বলছেন, কেউ বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। বিচার ও সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সংস্কার জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। সংস্কার কাগজে নয়, সংস্কৃতিতে হয়। মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন টেকসই হয় না। উদ্বেগের বিষয় হলো—এই দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রভাবিত করার হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
এদিকে জনবিচ্ছিন্ন কিছু ছোট দল আসন সমঝোতার স্বপ্নে বিভোর। বড় দলের প্রতীক ধার করে বা প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকে বিকৃত করবে। যখন জনসমর্থনহীন কোনো শক্তি রাজনৈতিক সমীকরণের সুযোগ নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসীন হয়, তখন তা কেবল ভোটের সংখ্যাতত্ত্বকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনকেও আড়াল করে দেয়। এতে কেউ হয়তো ক্ষমতায় পৌঁছাতে পারবে, কিন্তু জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ মার্কা চেনে, আদর্শ চেনে। কৃত্রিম সমীকরণ কখনোই টেকসই হয় না।
নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী মূলধারার বাইরে রাখার প্রবণতা। এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। একদিকে, গত ১৫ বছরে যারা অপরাধ করেছেন, তাদের বিচার হতেই হবে—এ নিয়ে কোনো আপস নেই। অন্যদিকে, একটি বড়, ঐতিহাসিকভাবে প্রোথিত ও জনসমর্থনপুষ্ট দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন হলে সেটি গণতান্ত্রিক হবে না এবং আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বরং তা ভবিষ্যৎ অস্থিরতার ভিত্তি তৈরি করবে।
আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশ নিত এবং ধরা যাক তারা ৫০–৭০টি আসন পেত, সেটি জনগণের রায়ের মাধ্যমে তাদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক শিক্ষা হতো। কিন্তু তাদের বাইরে রেখে নির্বাচন হলে তারা ভবিষ্যতে দাবি করার সুযোগ পাবে—‘জনগণ আমাদের সঙ্গেই ছিল, তাই আমাদের নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি।’ তখন এই দাবির বিপক্ষে শক্ত যুক্তি দাঁড় করানো কঠিন হবে।
১৯৯১–২০০৮ সময়কালে আওয়ামী লীগের সর্বনিম্ন ভোট ছিল ২০০১ সালে—প্রায় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল সময়েও দেশের প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ ভোটার তাদের পক্ষে ছিল। এই বড় ভোটভিত্তিকে বাইরে রেখে বা ভয়ভীতির পরিবেশে নির্বাচন হলে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন সম্ভব নয়।
আরেকটি বাস্তব ঝুঁকি হলো সহিংসতা। আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে রাজপথে শক্তিশালী। তারা যদি নির্বাচন প্রতিহত করার ডাক দেয়, তখন সাধারণ মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে—এমন প্রত্যাশা অবাস্তব। বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস বলে, সহিংসতা ও ভয়ভীতির পরিবেশ ভোটার উপস্থিতিকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।
ভোটাররা যদি মনে করে এই নির্বাচন কেবল আন্তর্জাতিক লোকদেখানো বা নির্দিষ্ট কাউকে ক্ষমতায় বসানোর ‘ডামি’ প্রক্রিয়া, তাহলে তারা এতে অংশ নেবে না। ভোটের মর্যাদা হারালে ভয় ও অনীহা একসঙ্গে কাজ করে।
আমি কোনো দলের প্রার্থী নই, কোনো দলের সমর্থকও নই। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি চাই প্রকৃত অর্থে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। বর্তমান বিভ্রান্তি, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে সেই নির্বাচন হওয়া অত্যন্ত কঠিন।
সংস্কারের নামে নির্বাচনকে যদি প্রভাবিত বা বিকৃত করা হয়, দিনশেষে পরাজিত হবে গণতন্ত্রই।